নিম্নে প্রশ্নগুলো লিখা হলো:...
উওরগুলো লেখা হলো নিচে লেখা হলো....
১.কাচা আম টক কিন্তু পাকা আম মিষ্টি কেন?
কাচা আমে অম্লীয় পদার্থ, যেমন সাইট্রিক অ্যাসিড ও টারটারিক অ্যাসিড, বেশি পরিমাণে থাকে, যা আমকে টক করে তোলে। পাকার সময়, এই অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায় এবং গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ জাতীয় শর্করা উৎপন্ন হয়, যা আমকে মিষ্টি স্বাদ দেয়।
২. ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের প্রভাব লেখ।
রাসায়নিক সার ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। এটি মাটিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, ও পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে, যা উদ্ভিদের সঠিক পুষ্টি গ্রহণে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা কমে যেতে পারে এবং পরিবেশ দূষিত হতে পারে।
৩. আলকেমি বলতে কি বোঝা?
আলকেমি হলো একটি প্রাচীন বিজ্ঞান যা রাসায়নিক উপাদানগুলির পরিবর্তন ও তাদের সাথে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করত। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ ধাতুকে সোনা বা মূল্যবান ধাতুতে রূপান্তর করা এবং অমরত্ব লাভের জন্য "এলিক্সির অব লাইফ" তৈরি করা।
৪. রসায়ন গবেষণাগার বলতে কী বোঝ?
রসায়ন গবেষণাগার হলো এমন একটি স্থান যেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের গবেষণা, পরীক্ষানিরীক্ষা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। এখানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণের সাহায্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ও অন্যান্য রসায়ন সম্পর্কিত কার্যকলাপ সম্পন্ন করা হয়।
৫. রসায়ন পাঠের গুরুত্ব লেখ।
রসায়ন হলো বিজ্ঞানের একটি মৌলিক শাখা, যা পদার্থের গঠন, ধর্ম, এবং প্রতিক্রিয়াগুলি সম্পর্কে ধারণা দেয়। রসায়ন পাঠের মাধ্যমে আমরা খাদ্য, ওষুধ, কৃষি, এবং শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারি। এটি দৈনন্দিন জীবনের অনেক কার্যক্রম যেমন রান্না, পরিচ্ছন্নতা, এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা হয়।
---
১. ব্যাপন ও নিঃসরণের তুলনা ব্যাখ্যা করো।
ব্যাপন: পদার্থের কণাগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে সঞ্চালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাতাসে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়া।
**নিঃসরণ**: একটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে গ্যাসের ধীরে ধীরে বের হওয়ার প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ, বেলুনের বাতাস ধীরে ধীরে বেরিয়ে যাওয়া।
২. কণার গতিত্ব বলতে কী বোঝ?
কণার গতিত্ব বলতে কণার গতিশীলতা বা স্থানান্তরের বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। গ্যাস, তরল ও কঠিন পদার্থের কণাগুলি বিভিন্ন গতিতে নড়াচড়া করে থাকে, যা তাপমাত্রা এবং চাপের উপর নির্ভর করে।
৩. ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থগুলোকে তরল অবস্থায় পাওয়া যায় না কেন?
ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থগুলোর অণুগুলি খুবই দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলে শীতল অবস্থাতেও তারা শক্ত বা তরল রূপ ধারণ করতে পারে না। তারা তাপ পেলে সরাসরি গ্যাসে রূপান্তরিত হয়, যেমন- ন্যাফথলিন।
৪. ব্যাপন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া—ব্যাখ্যা করো।
ব্যাপন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া কারণ এতে কণাগুলি উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে নিজেরাই স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাহ্যিক শক্তির প্রয়োজন হয় না, যা পদার্থের কণার প্রাকৃতিক গতিশীলতার কারণে ঘটে।
---
১. Ar এর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করো।
Ar (আর্গন) হলো একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এর সর্বশেষ শক্তিস্তর সম্পূর্ণ পূর্ণ থাকে (৮টি ইলেকট্রন), ফলে এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। এই কারণে এটি স্থিতিশীল।
২. পরমাণুর নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জবিশিষ্ট কেন?
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন এবং নিউট্রন থাকে। প্রোটন ধনাত্মক চার্জ বহন করে, আর নিউট্রন নিরপেক্ষ থাকে। যেহেতু প্রোটনই চার্জধারী কণা, তাই নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট হয়।
৩. অরবিট ও অরবিটালের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
অরবিট: এটি নির্দিষ্ট পথ যেখানে ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঘুরে।
অরবিটাল: এটি একটি ত্রি-মাত্রিক স্থান যেখানে ইলেকট্রনের উপস্থিতি সর্বাধিক সম্ভাবনা থাকে।
৪. আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরের একক নেই কেন?
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হল বিভিন্ন মৌলের ভরকে হাইড্রোজেন বা কার্বন-১২-এর তুলনায় আপেক্ষিকভাবে প্রকাশ করা। এটি কেবল একটি আপেক্ষিক সংখ্যা, ফলে এর জন্য কোনো একক প্রয়োজন হয় না।
৫. সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 বলতে কি বোঝ?
সোডিয়ামের পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা ২৩, অর্থাৎ এটি ১১টি প্রোটন ও ১২টি নিউট্রন ধারণ করে। এ কারণে এর ভর সংখ্যা ২৩।
৬. Rb-কে ক্ষার ধাতু বলা হয় কেন?
Rb (রুবিডিয়াম) হলো ক্ষার ধাতু। কারণ এটি গ্রুপ-১ এর মৌল এবং জলে দ্রবীভূত হয়ে সহজেই ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে। এটির ভর এবং প্রভাব খুব সক্রিয়।
---
১. Mg কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয় কেন?
Mg (ম্যাগনেসিয়াম) হলো একটি মৃৎক্ষার ধাতু। এটি গ্রুপ-২ এর মৌল এবং ক্ষারীয় প্রকৃতি ধারণ করে। এটি মাটিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি সহজেই যৌগ গঠন করতে সক্ষম।
২. ক্লোরিন একটি হ্যালোজেন মৌল—ব্যাখ্যা করো।
ক্লোরিন একটি হ্যালোজেন মৌল কারণ এটি গ্রুপ-১৭ এ অবস্থান করে এবং খুবই সক্রিয়, বিশেষ করে ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ গঠন করে। হ্যালোজেন শব্দটি এসেছে "লবণ গঠনকারী" থেকে।
৩. H কে গ্রুপ-১ এ স্থান দেওয়া হয়েছে কেন?
H (হাইড্রোজেন) এর একটি ইলেকট্রন রয়েছে, যা এটিকে গ্রুপ-১ এ রাখার কারণ। এটি ক্ষার ধাতুগুলোর মতো একটি ইলেকট্রন হারিয়ে ধনাত্মক আয়ন তৈরি করে।
৪. ক্লোরিন অপেক্ষা ফ্লোরিন এর ইলেকট্রন আসক্তি কম—ব্যাখ্যা করো।
ফ্লোরিন আকারে ছোট এবং ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি থাকে, ফলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ শক্তি বেশি। এতে অতিরিক্ত ইলেকট্রন যুক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে, যা ইলেকট্রন আসক্তি কমিয়ে দেয়।
৫. Be একটি মৃৎক্ষার ধাতু—ব্যাখ্যা করো।
Be (বেরিলিয়াম) গ্রুপ-২ এর একটি ধাতু, যা মাটিতে পাওয়া যায় এবং ক্ষারীয় প্রভাব ফেলে। এটি সাধারণত অক্সাইড ও অন্যান্য যৌগ গঠন করে। এ কারণে এটিকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়।


0 Comments